মেট্রো ডেট্রয়েট ও আশপাশের মিশিগান এলাকায় আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কমে যেতে পারে। শক্ত বাতাসের কারণে অনুভূত ঠান্ডা প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি হবে, যা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এমন আবহাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ত্বকে frostbite হতে পারে এবং দীর্ঘ সময় ঠান্ডায় থাকলে hypothermia-এর আশঙ্কা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক।
এই সময়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। বাইরে যেতে হলে শরীর সম্পূর্ণ ঢেকে গরম কাপড় পরা জরুরি। টুপি, গ্লাভস, মোজা ও গলা-মুখ ঢাকার ব্যবস্থা না থাকলে শরীর দ্রুত তাপ হারায়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শরীর অসাড় হয়ে আসছে কি না, আঙুল বা কানে ব্যথা হচ্ছে কি না—এসব লক্ষণের দিকে খেয়াল রাখা দরকার। পাশাপাশি একা থাকা বয়স্ক প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়াও এই সময়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রচণ্ড শীতে বাড়ির পানির পাইপ জমে যাওয়ার ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়। খুব ঠান্ডায় পাইপের ভেতরের পানি বরফ হয়ে গেলে পাইপ ফেটে যেতে পারে, যার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। পাইপ জমে যাওয়া রোধ করতে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখতে হবে, এমনকি কেউ বাইরে থাকলেও হিটার পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। রান্নাঘর বা বাথরুমের কল থেকে খুব অল্প করে পানি চলতে দিলে পানির ভেতরে নড়াচড়া থাকে এবং পাইপ জমে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। বেজমেন্ট, গ্যারেজ বা বাইরের দেয়ালের কাছাকাছি থাকা পাইপগুলো কাপড় বা ইনসুলেশন দিয়ে ঢেকে রাখা ভালো। বাইরে থাকা গার্ডেন হোস বা অতিরিক্ত পানির লাইন আগেই বন্ধ করে পানি বের করে রাখা নিরাপদ।
যদি কারও শরীরে অতিরিক্ত ঠান্ডার লক্ষণ দেখা যায়—যেমন ত্বক সাদা বা নীলচে হয়ে যাওয়া, অনুভূতি কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক কাঁপুনি বা কথা জড়িয়ে যাওয়া—তাহলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া জরুরি।
এই শীতে নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবার ও আশপাশের মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সচেতন থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা সহজেই এড়ানো যায়। সবাই সতর্ক থাকুন, সুস্থ থাকুন।


